Sunday, May 19, 2013

অহর্নিশ আমি তোমার কথা ভাবছি
এর থেকে আর বড় মিথ্যে কিছুই নেই ।
তোমার কথা ভাবি .. ভাবনার মতই ;
মেঘের সাথে এক গোপন আঁতাত হযেছে
আকাশে মেঘ জমলে ; বাতাসে সোঁদা গন্ধ এলেই ,
জানবে তোমার কথা ভাবছি।
রাত্রি ক্রমশ অসহ্য হচ্ছিল
মাথার বালিশ, চেপে রাখা দুঃখের মত পুঁটুলি
হযে বুকের কাছে জমা হয় ..
নিশীথের স্তব্ধতা বড়ই পাশবিক ।
আমি উড়তে চাই
প্লিজ এক জোড়া ডানা পাব ?
উড়ে বসবো জল টাঙ্কির ছাদে ..
গুগল ম্যাপের মত দৃশমান সব
ওই যে ওই পুকুর ..ঢালু রাস্তা ..
ইশান কোণেতে..
আমার প্রেয়সী ।

Wednesday, January 11, 2012

বঙ্গ-বকম (পর্ব : ২ )

বঙ্গ-বকম 
(পর্ব : ২   )


খচ্চরে ভরে যাচ্ছে চারিদিক | স্টিফ হয়ে যাওয়া ঘাড় ঘোরানোর কোনো দরকার নেই | ইতি - উতি থেকে ওরা  আপনাকেই  লক্ষ্য করবে | ছোটবেলায় শোনা সেই বিদেশী গুপ্তচরের  মতো | "জ্যান-গ্যান" এখন বিস্তর সেয়ানা |
পাড়ার পচার দোকানে এখন আর মাস-কাবারি হয় না , শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মল-এ অফারে ট্রলি বোঝাই  বিকিকিনি | তবু এর মাঝে উৎসব  আসে | আনন্দে তাই হিসি বেঁকে গিয়ে দেয়াল মেঝে ভিজিয়ে দেয় |
উৎসব  দোলা দেয় মনে | হাসনুহানার গন্ধের মতো এক বুক প্রশস্তি | পুজো তারপর  শীত এলেই মেলা উৎসব | যেন মুক্তি | বই , গান , সিনেমা আরও কত কিছুর | যদি কিছু বাদ দিযে  থাকি তবে প্লিজ জুড়ে নেবেন | আমি-তো আর পি . এম  . বাগচীর  পঞ্জিকা লিখছি না |  ২৪ x ৭ জীবনে কখন সূর্য্যি ওঠে আর কখন বাচ্চার ন্যাপি বদলে গেছে জানা দায় | 
দেখুন বিজ্ঞানের যেমন ভালো দিক থাকে , তেমনি উৎসব-র খারাপ দিক থাকে |  কিছু মনে করবেন না | আমি তো ঋতুপর্ণ নই তাই লেখায় কিছু চরিত্র কাল্পনিক | উত্সব  কে কেন্দ্র করে হাগুরের  মতো খওয়া | উদ্দাম প্রেম | ব্যপক ফিচলেমি  | ভীষণ ঝাড়িবাজি | সব মিলিয়ে ঘেঁটে ঘ | উৎসব  তাই জীবনে  ভীষণ প্রাসঙ্গিক |
উৎসব  কে কেন্দ্র করে ট্যাঁস  ভাবটাও লক্ষ করার মতো | জীবন টা যখন 'রোববারের ডালহৌসির  মতো ' , দাঁড়ে বসা ময়না ছোলা খাচ্ছেনা  , তখন উৎসব  খুব দরকার | লাগবে না একা | যদিও একটা কথা মাথায় রাখবেন উৎসবের  শেষে প্রেম করুন | আর ভেঙ্গে দিন উৎসবের আগে | খরচ বাঁচাতে বলছিলাম | ভালো না লাগলে ডিলিট করুন |
আমার কাছে উৎসব  বেশ ধাক্কার এক জিনিস | অর্থনৈতিক ,মানসিক , রাজনৈতিক , সামাজিক ও শারীরিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে হয় | ক্রমে ক্রমে টা আমি ব্যাখা করব |
উৎসব নির্ভর করে পোশাক নির্ণিত   হয় | আরও একটা দৈনন্দিন  জিনিস যেটা উৎসবের সময়  ভীষণ জরুরি সেটা  মোবাইল |
যে পোশাকে অষ্টমীর অঞ্জলি  দিয়েছেন সেটা চাপিয়ে তো আর বইমেলা, ফিল্ম ফেস্টিভালে ওই পোশাক অচল | তাই উৎসব কেন্দ্র করে যেমন বদলায় পোশাক তেমনই সঙ্গী বা সঙ্গিনী  |
উৎসব  নিয়ে আর যা কিছু হোক না কেন  মোবাইলটি  ট্যাঁক থেকে খসবে না | অন্তর্বাস  পরতে ভুলতে পারে কিন্তূ মোবাইল কদাচ না | উৎসব তাই আজ "তিন - ম"  তে আর উৎসব শেষ নয় | মোবাইল নিয়ে এখন  "চার -ম" | লোলুপ দৃষ্টিতে ঝাড়ি মারছেন তখনও  আঙ্গুল খুব সচল | আরে বলতে চাইছি sms  করছেন | আর এখন   দোসর হযেছে  ব্যাগ | যেন এক মহাজাগতিক আবিস্কার | পুরুষ হলে ব্যাগ থাকবে পিঠে , আর মহিলা হলে বুকে | উৎসবের দিনেও রেহাই নেই | ব্যাগ বহনকরিরা মনে করেন উল্টো দিকে সবাই এক এক জন ম্যাটাডোর | দে শালাদের পা মাড়িয়ে | ট্যুশো দিয়ে এগিয়া যেতেই হবে |
আমার সম্পাদক এই ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঘোরেন | ঘোড়েল মাল | ঢালের মতো পিঠের ব্যাগটা প্রভুর পশ্চাত বাঁচাতে যেন নেমে পরেছে | অদ্ভুত এক  ব্যাগ গাড়ু থেকে কমনডুলু সব রাখা যায় |
 কেনও এই সংখ্যায় ওই  জাতীয় ব্যাগের পেছনে লাগছি | যার মারা যায়, ব্যথা কেমন শুধু সে-ই জানে | এই বার পুজোর আগে প্রেমিকার সাথে নন্দনে সিনেমা দেখতে গেছিলাম | শো শেষে বিস্তর ঠালাঠেলি, তারমাঝেই আর্তনাদ | পড়ে দেখি ওই আর্তনাদরত মহিলাটি  আমার প্রেমিকা | ব্যাগের এক বেরিয়ে থাকা দড়িতে কানের দুল আটকে গেছে | সামনের  বীর-পুংবক  কানে মোবাইল গুঁজে মাথা দোলাতে দোলাতে চলেছেন | ঘাড়ে হাত দিয়ে ডাকতেই চরম বিরক্তি ভর্তি মুখ নিয়ে "হ্যা বলুন .."| পরিস্থিতিটা দেখালাম | ব্যাগরুপী রাবনের হাত থেকে আমার সীতাকে রক্ষা করলাম | তারপর কি হযেছিল তা পাঠক দের না জানায় ভালো | সাধারনত যা আকছার হয় গৃহপলিতদের |
হ্যা তবে, উৎসবের কথায়  ফিরে আসি | খরচ  |  ইহা অর্থনৈতিক ধাক্কা  | উৎসবকে কেন্দ্র করিয়া  ধাক্কা চক্রবৎ ফিরিয়া আইসে | নতুন জামা কাপড় কেনার দায় থাকে | মেলা উৎসব হলে টিকিট, জিনিস, খাওয়াদাওয়া | রেস্তো তখন পচে যাওয়া মাংসর মতো খসে খসে পরবে |  যদি পর্যায় ক্রমে প্রেম থাকে তবে কি কেস হয় ! ভারচ্যুয়াল ওয়ার্ড দাদা |   প্লিজ বাবা মার কথা ছাড়ুন |  শনিবারের বিজ্ঞাপনের পাতাটা খুটিয়ে পড়ছেন তো ? সস্তার  বৃদ্ধাশ্রমটা কোথায় খোঁজ পেলেন  |
আমরা যারা যে জিনিসটা বুঝি না, দেখাতে চাই সেটাতেই আমাদের কত না ব্যুৎপত্তি |এই জাতীয় সভায় কেউ বোকা বললে ক্ষতি নেই ওটাই এমন কিছু স্টেটাস নষ্ট হয় না | কিন্তূ ভাবুন যদি কেউ গান্ডু  বলে তাহলে তো  স্টেটাস বোন আর ভার্জিন থাকবেনা | তাই সাধু সাবধান !   হোক না সেটা  সংস্কৃতি | কেতা মারার অমুন কুঞ্জবন আর কি দুটো আছে এই ভুবন ডাঙাতে  | সবের শেষে আছেন  সেই রেস্কু পুরুষ | রনে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে ফলক পুতিবে বা পুঁতি গন্ধময় তর্ক করিবে ওই জোব্বা পরা পক্ক শুল্ম -কেশের  ভদ্রলোক বাঙালিদের উদ্ধার করিবেন | জানি বা নাইবা চিনি | পরাণ সখা বলে কতা ! 
 কার সাথে তর্ক করছেন সেটা একটু ভাবুন | সে-ও যদি আরেকটা ট্যাঁস হয় , তবে  চাপ খুব কম | যদি দেখেন বিমার আসছে, বাঁচার জন্যে মোবাইলটা কানে নিয়ে ল্যাজ গুটিয়ে কেটে পড়ুন | এটাতে  তো  সিদ্ধহস্ত , আগেও বন্ধুদের সাথে একসাথে খেতে গিয়ে বহুবার  করেছেন | প্লিজ যাওয়ার আগে বলে যান, বসের ফোন, কথা শেষেই ফিরছি | সাবধানে পাস কাটিয়ে  বউ, মা বা কাজের লোকের খুঁত ধরুন | ফেক বাওয়াল করুন |এই জাতীয় সভায় কেউ বোকা বললে ক্ষতি নেই, ওটাই এমন কিছু স্টেটাস নষ্ট হয় না | কিন্তূ ভাবুন যদি কেউ গান্ডু  বলে, তাহলে তো  স্টেটাস বোন আর ভার্জিন থাকবেনা | তাই সাধু সাবধান !   যদি না পারেন পালাতে তবে হাল হবে ২০১১ -র cpm -র মতো  | এই পর্যায় তাই আলোচ্য বিষয় ছিল সামাজিক ধাক্কা |
মানসিক   ধাক্কা নিয়ে আর কি বা লিখব | টলি-বলি ওই ধাক্কর ঘাত প্রতিঘাত নিয়ে বক্স অফিস ভরছে ফি -সপ্তাহে  | ডেমো দেওয়ার ইচ্ছেটা ক্রমশ আমার অভ্যাসে পরিনত হচ্ছে | ধরুন বাজারে গেছেন ( ব্রিজের তলার নয়, বাজার এখন  শপিংমল) | সঙ্গী রযেছে | তবুও রাডারের মতো ঘুরছে মাথা  | হঠাত কেউ চোখে পরলো | আত্ম্গ্লানিতে  ভুগতে শুরু করলেন | অমুন যদি হত তবে কি চমত্কারই না হত | কি সুখ-ই না হত রাত্রি যাপনে | শুরু হলো ছায়ার সঙ্গে লড়াই | উদাস অথবা দেবদাস হতেই পারেন | তবে এই মানসিক পর্যায়ে দৃশ্যকামে ঢুকে পরলেই কিন্তূ  কাম সারসে  |
রাজনৈতিক ধাক্কা বড়ই সাংঘাতিক | যেটা নেই সেটা পাওয়ার বাসনা চিরন্তন | উৎসবের সময় উন্নতির শিখরে ওঠা বোসদা বা মুখার্জী বৌদির সামনা- সামনি হলেই যেন হৃদয়ে শলাকা ফোটে | "শালা, আমি  'চুল' (হিন্দী প্রতিশব্দটা  পড়ুন), ডার্টি মধ্যবিত্ত-ই রযে গেলাম | গামছা পরে পেছন চুলকোতে চুলকোতে শ্যাওলা ধারা বারওয়ারী কলঘরে সকাল হতে না হতেই লাইন দিতে হয় | আর ওরা গাড়ি চড়ে জগিং করতে যায় | " প্রতিভা-টতিভা সব সার গাদার পেছনে ফেলে দিয়ে ফ্রাসটেসনের শুঁড়-শুঁড়ি তখন শরীর জুড়ে | শীত্কার করে বলে শালা শ্রেণী শত্রু | আসুক না একবার বিপ্লব সব ঢুকে যাবে |    
ব্যাস সেই মাত্র গ্রে-ম্যাটারের স্টর্মিং শুরু | পয়সা থাকলে বিদেশী  না হলে ধেনো নিয়ে ভাবতে হবে | কি ভাববেন? যে শলাকা হৃদয়ে ফুটছিল তা সাবধানে বেরকরে এনে কি ভাবে কার পেছনে ব্যবহার করবেন ! তাই তো | যদি এখনো পলিটিকালি কারেক্টে থাকতে চান তবে ইগনোর করুন ওই সব বালখিল্যতা | আর যদি ভাবেন বাঁশ কেন ঝাড়ে .. |  প্লিজ আদা জল খেযে লেগে পড়ুন | কথা দিচ্ছি, উৎসবের বাজারে পুরকি  দেওয়ার  লোকর অভাব হবে না  |
সবশেষে শারীরিক ধাক্কা | এই ধাক্কাটা দিল্লীকা লাড্ডুর মতো | ফোকোটে  যদি কেও সঙ্গ দিতে  চায় তবে টা নিয়ে আমি কিছু বলতে চায় না | যৌনতা বেশ জটিল সমীকরণ | তাই উৎসবের দিনে এই ধাক্কা সই | নিজ কক্ষে পরদার কে নিয়ে মোক্ষ লাভ হবে কিনা জানি না | তবে নিন্দের সম্ভাবনা বাড়তে পারে | তাই একটু দুরে একটু না হই লং ড্রাইভ | মাথাতে  রাখবেন বুলাদি কে | খুব  বড় দার্শনিকের মতো বলেছেন , সেফ সেক্স-র কোনো বিকল্প হয় না | 
যারা  লিমিটেড মানুষ, মানে যারা লিমিটেড খায় , লিমিটেড পান করে, যারা কখনই ভাবতে পারে না, লার্জার দ্যান লাইফ বলে কিছু হয় | তারাও শারীরিক ধাক্কায় বেসামাল হযে পরেন | শুধু কি সেই মানুষ, সাধুদেরও আসন টলে যায় | তাই উৎসবের বাজারে ভীড় প্রাসঙ্গিক | ভীড় মানেই বিস্তর ধাক্কা-ধাক্কি | নিজেকে সাধু  রাখার জন্যে শুনতে পাবেন কেও কেও বলছেন "আস্তে,  জোরে ঠেলবেন না" | আমি কিন্তূ  সম্পাদকের ওই ব্যাগটার ভালো গুণ খুঁজে পেয়েছি | যারা ফাঁকা বসে মহিলা সিটের সামনে জুলু জুলু চোখে তাকিয়ে থাকেন  | ব্যাস জব্দ তারা | বিস্তর উকি-ঝুকি দিয়েও বিভাজিকা দেখা যাবে না | কনুইয়ের এক্সারসাইজ করেও লাভ নেই | তবে একটু সামলে না হলে কূল যাবে শ্যামও যাবে |
সব ধাক্কা সামলে সবের ওপরে উঠেও  কিন্তূ উৎসব আমাদের জীবনের এক অঙ্গ | রোজের ব্যস্ত জীবনে দু- দন্ডের বিশ্রাম বা পথ চলতে গিয়ে যা দেখেও দেখিনা সেগুলোই না হই ভাবি উৎসবকে ঘিরে | জীবনের বেলেল্লাপনা , ছকবাজি, না হয় ওই দিন গুলোতে না-ই করলাম | উৎসব মানে তো অনাবিল আনন্দ, তাই চলুন না দৈনন্দিনের গা-য়ের ঝাল ওই কদিনের জন্যে মুলতবি থাকুক |
ভালো থাকুন | ভালো কাটান সামনের দিন  গুলো |

Tuesday, December 20, 2011

বঙ্গ-বকম (পর্ব : ১ )




বঙ্গ-বকম 
(পর্ব : ১  )
বৃষ্টি | বর্ষা | বেশ জটিল যৌগিক এক সমীকরণ | সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পাওয়ার মতোই | যে কোনো লেখার শুরুতে ভণিতা খুবই দরকারি | সম্পাদক সাপের গালে আর ব্যাং-এর গালে  চুমু অসাধারণ দক্ষতায় খেতে পারেন | তাও মাথায় তুলে এঁদের রাখতেই হয় | আমার মত সদ্য উঠতি লেখকেরা এঁদের জন্যেই কিছুটা স্পেস পান | যেকোনো লেখা যদি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয় তবে তার আলাদা এক কদর আছে | মান বাড়ে প্রেমিকার কাছে | মাথায় রাখবেন ভুলেও শ্বশুরের কাছে কখনই লেখা পড়ানোর দুঃসাহস দেখাবেন না | তবে প্রেমের হাল বাম জমানার সিঙ্গুর হবেই |
যে কথায় ছিলাম | হাঁ জটিল যৌগিক এক সমীকরণ | বৃষ্টি | অসম্ভব  সেক্সি এক বস্তু | একদম জিরো ফিগার | খাসা |
এই ধরণের জিনিস নিয়ে কিছু বলার আগে বাজার অর্থনীতির কথা বলতেই হয় | গত ৩৪ বছরের অভ্যাস | মতান্তরে ৩৫ | অর্থনীতি  নিয়ে বাতেলা দেব আর প্রেজেন্টেসন  দেব না তাই হয়  নাকি | প্রেজেন্টেসনটা কিন্তূ ভার্চুয়াল হবে | মানে, লেখা পড়তে পড়তে মনের সেই জায়গায় যেখানে ইমেজ তৈরী হয় সেখানে ইমাজিন করুন প্লিজ |
রেডি | আসুন তবে এক পিরামিড বানাই | যার  প্রথমে অর্থাৎ, ভূমিতে  গরীব-গুর্বো থাকবে |  তার ওপর কম গরীব | তারপর পর্যায়ক্রমে মধ্যবিত্ত , উচ্চবিত্ত , এবং পুঁজিপতিদের  রাখা হলো | ইমেজ টা  দেখবেন একটা পিরামিডের  | ঠিক তেমনি পিরামিডের বিভিন্ন ব্লকে যারা আছেন , তাদের খেলার দিকে একটু আলোকপাত করি | গরীব-গুর্বোদের পা থেকে যদি ফুটবলের জন্ম হয় তবে পুঁজিপতিদের খেলা গল্ফ | মাঝে রাখুন রাগবি , বাস্কেটবল , ক্রিকেট , টেনিস বল | নজর করুন  সইজের ওপর | নির্ঘাত খারাপটাই ধরেছেন | জানতাম চোরের মন বোঁচকার দিকে | আমি বলের সইজ নিয়ে কথা বলছিলাম | নীচ  থেকে যত ওপরে উঠবেন দেখবেন বল তত ছোট হচ্ছে | বৃষ্টিও তেমন | গরীব-গুর্বো কাছে যা মুশল ধারার পুঁজি পতির কাছে তাই ইলশেগুড়ি | তাই বলে বৃষ্টি কখনই পুঁজিপতির বাপের সম্পত্তি নয় |
জীবনে এখন অর্থিক প্রভাব সাংঘাতিক | জৈবিক রসও অর্থিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত | দলবদলের মতো বান্ধবী নিলাম হয় এখন মুক্ত অর্থনীতিতে  | ডেভিড কার্ডের থেকেও জরুরি ক্রেডিট কার্ড | বহুজাতিক সংস্থা আছে | আছে বটতলার টিয়া | তবুও প্রেম প্রেমই |
বর্ষাকাল, আমার মতো অল্প-শিক্ষিত , ছাপোষা মধ্যবিত্তের মনও পেখম তুলে নাচে | তেমনি রাজাবাজারে পলিথিনে ঢাকা রুকসানার সংসারে জোয়ার আসে | হিলস আর এনাদার সাইড পিঠে লেখা , দৃশ্যমান বিভাজিকা থেকে এই বুঝি উড়ল ট্যাট্টু-রুপী প্রজাপতি , বিদেশী কোলনে সুবাসিত তরুনীরও  বাঁ-দিকে নিঁচে ঠোঁটটা ফোলা | আসলে কাল বৃষ্টি হযেছিল | বৃষ্টির সাথে প্রেমের এক অসাধারণ গাটছড়া রযেছে |
আকাশলীনারা অভিসারী মেঘের মতোই | কালিদাসের সময়ে প্রেমিকের বার্তা আসত আকাশ পথে | সেই ট্র্যাডিসন এখনো চলছে | এখনো প্রেমিকের বার্তা যায় আকাশ পথে | মোবইলে | শুধু বার্তা নয় গোপন অনেক কিছুই চলে যায় |  বিশ্বাস করে যে গতকাল শরীর সমর্পণ করেছিল , সেই শরীরী ভিডিও পৌঁছে গেছে বাজারে | এটা কি প্রেমের এক পর্যায় ? নিশ্চয় নয় |
যারা বৃষ্টিতে ভিজে ছিল তাদের শেষে কি হযেছিল আমি জানিনা | তবে ভাইরাল ইনফেকসন থেকে বাঁচতে ছাতা আর কন্ডমের কোনো বিকল্প নেই | সাবধানের মার নেই , সাথে  এই দুটো রাখতে হবেই |
 জানি মামা , খুব বিতর্ক হবে | হোক | আমি বিতর্ক চাই | বিষয় যখন বর্ষা , আমি ভিজতেও  চাই এবার শুকনো থাকতেও চাই | আমার ছোট বেলায় শেখা কবিতার এক কলি -
কাল ছিল ডাল খালি / আজ গেল ফুলে ভরে |
 কাল পরনে ছিল  দাদার " মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক " লেখা গেঞ্জি | ঝোঁপ বুঝে ঠিক সময় দিদির দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেওয়া হলো | দিন দিন জীবন আলিপুরের হওয়া মোরগ হওয়া যাচ্ছে |  বাঁ না ডান কোনটায়  আসবে মুক্তিসূর্য | টোটাল ঘেঁটে | কাক ডাকুক বা না ডাকুক যেতে তো হবেই |
বর্ষা কালে বিস্তর সমস্যা | জামা কাপড় শোকায় না | বেশ আঁশটে গন্ধ | প্লিজ আঁশটে গন্ধের সঙ্গে ওই আঁশটে গন্ধ মেশাবেন না | হঠাত পরকিয়া যার সঙ্গে চলছে মাঝ  দুপুরে তার ফোন | বাড়ি ফাঁকা | নিশ্চিন্তে প্রেম হবে আজ | বুক ভরা ভালবাসা না ভরা বুকের টান এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বারান্দায় এলেন | দড়িতে শুকোতে দেওয়া আম্তর্বাসের দিকে হাত দিতে গিয়ে চুল খাড়া | শেষ বেলায় বগলের ডিও নিচে নামে |
বর্ষায় কলকাতা সব এলাকা যে ভালো অবস্থায় থাকে তা নয় | তবে শীত গ্রীষ্ম বর্ষায়  আমি রেড রোডের ফ্যান | এই রাস্তায় বৃষ্টির এক অসাধারণর রম্যান্টিসিম রযেছে | প্রেমিকার হাতে হাত রেখে বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় হাঁটার মজাটা যার হেঁটেছেন তারাই জানেন | শরীর সাথে সেঁটে থাকা পোশাক আর মাঝে মাঝে জাপটে ধারার ইচ্ছে | ভিজতে ভিজতে চুমুর স্বাদটা একদম আলাদা |
তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে | ১২ তলার ওপর সাজানো ফ্লাট | দক্ষিণে কাঁচ বসানো জানালা  থেকে প্রকৃতিটা দেখা যায় | এক চিলতে সবুজে বেশ লাগে  বৃষ্টি দেখতে | মনে হয় যেন রেন-ফরেস্ট | এমন দিনে বুকে বালিশ বালিশ নিয়ে বউ রহস্য উপন্যাস পড়ছেন | কর্তা কাঁচ দেওয়া বারান্দায় বসে স্কচে ঠোট ভেজাচ্ছেন | কর্তার সামনে দুটো দৃশ্য | আরশির ওপারে অবিরল ধারায় বৃষ্টি | আর এপারে  চিবুক , লকেট আর ক্লিভেজে আলো-আধার গোলক ধাঁধার রহস্যময়ী পথ | ওই পথ ডাকছে ,  এস পাপ করি | এক ঢোকে গেলাস শেষ |
গেলাস যেই শেষ ঠিক তক্ষনি  ঝাড়ু হাতে মালতি বারান্দায় | কর্তার বাড়ির কাজের মেয়ে | সুস্তনি , পেট বার করে গাছ কোমর শাড়ি পরে | অসম্ভব সেক্সি | পোলের তলার ঝুপড়ি বস্তিতে থাকে | মস্তির জিনিস মাইরি | কর্তা তাই ডবকা বলেন | অনেক ঘি ঢেলে প্রথম মাস খানেক ওরাল | ওরালের পর দর কষা-কষি | আপোষ মীমাংসায় রফা সুত্র ধরে , পরশু দুপুরে বিছানায় | কর্তার বউ সেদিন  সপিং-এ গেছিলেন | কর্তার বুনো বেড়াল মনে হযেছিল | বেশ উত্তেজনা ছিল | সবেই জল ঢালল মালতি | বলে কিনা , দাদাবাবুগো ওই সাপ জাগানো তেলটা মাখো | ৬বি -র দাস বাবু কিন্তূ ফল পেয়েছেন |
আজ যখন ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছে কর্তার মন নাচছে তখন | খানিক পরই পোলের তলা ভেসে যাবে | জল থৈ থৈ হবে মালতির ঘরে | বাপ ছেড়ে যাওয়া মাকে নিয়ে কোথায় যাবে | এই ভাবতে ভাবতে কর্তা ধরালেন সিগারেট | জমিয়ে সুখটান | দেখ কেমন লাগে | সাপ জাগানো তেল আপাতত জল থেকে বাঁচ |
সত্যি মালতিদের মতো যারা আর্থিক পিরামিডের নিচের তলা গুলোতে থাকেন তাদের কাছে বর্ষা অভিশাপ | ভেসে যায় সংসার | সারাদিন গুটিসুটি হযে এক চিলতে প্লাস্টিকের তলায় বসে নিশ্চয় বৃষ্টি দেখার নুন্যতম বাসনা  থাকেনা |  টানা বৃষ্টিতে নাস্তানাবুদ কলকাতা |
পরিচিতাকে বৃষ্টি বিলাসের sms পাঠাছিলাম | হঠাত লিখল, কাল পারলে এক বার স্কুলে এসো | কি কারণে জরুরি তলব জানি না | সক্কাল সক্কাল  স্কুলে হাজির | শৈশব হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবার | পথশিশুদের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার এক অসাধারণ প্রচেষ্টা নিয়েছে এই সংগঠনটা | বৃষ্টি দেখে বেশ ফুরফুরে ছিলাম | স্কুলে ঢুকেই বিষাদে ভরে গেল মনটা | কাক ভেজা হযে শিশুরা দাড়িয়ে আছে | স্কুলের দিদিমনিরা শিশুদের শুকনো জামা কাপড়  দিচ্ছেন পরার জন্যে | চার বছরের এক শিশুর সাথে পরিচয় হলো | সে গত তিন রাত ঘুময়নি  | কোনো এক শেডের তলায় সারা রাত রাস্তার কুকুরের সাথে রাস্তার ছেলেটি মাথা বাঁচানোর বোকা চেষ্টা করে গেছে |
 ঘোর ভাঙ্গে পরিচিতার sms -এ | sms -এ লেখা " হাজার কষ্ট হলেও আমি তাই কলকাতায় বৃষ্টি চাই না |"
আর আমি | গত কালও রাতে জানলায় বসে সিগারেট খেতে খেতে বৃষ্টির দৃশ্যসুখ উপভোগ করছিলাম | আর্জি  ছিল , আরও বৃষ্টি আরও বৃষ্টি |
 আজ আর্তি আছে | থামুক বৃষ্টি |
অনেক বিলাস হযেছে তোমায় নিয়ে বৃষ্টি | না হয় আমাদের মতো নিশ্চিত আশ্রয় যাদের আছে,  প্রেমে খাদ আসতে পারে তাদের | কিন্তূ যাদের মাথায় প্লাষ্টিকটাও নেই , তাদের কি কি হতে পারে কখনও কি ভেবে সময় নষ্ট করি ?